করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬, টিকেট ও ভাড়ার তালিকা
উত্তরবঙ্গের যোগাযোগ ব্যবস্থায় রেলপথ একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। বিশেষ করে সান্তাহার থেকে বুড়িমারী রুটে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ সম্পর্কে জানাটা বেশ জরুরি। আপনি যদি উত্তরবঙ্গের এই রুটে নিয়মিত যাতায়াত করেন কিংবা ভ্রমণের পরিকল্পনা করছেন। তবে এই ট্রেনটি আপনার জন্য অন্যতম সেরা বাহন হতে পারে। নিরাপদ ও আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য করতোয়া এক্সপ্রেস যাত্রীদের কাছে বেশ জনপ্রিয়। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা এই ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট মূল্য, বিরতি স্টেশন এবং ভ্রমণের খুঁটিনাটি সকল তথ্য খুব সহজভাবে আপনাদের সামনে তুলে ধরব।
সান্তাহার জংশন এবং লালমনিরহাটের বুড়িমারী স্টেশনের মধ্যে সংযোগ স্থাপনকারী এই ট্রেনটি আন্তঃনগর ট্রেন হিসেবে পরিচিত। প্রতিদিন শত শত মানুষ বগুড়া, গাইবান্ধা এবং লালমনিরহাটের বিভিন্ন স্টেশনে যাতায়াতের জন্য এই ট্রেনের ওপর নির্ভর করেন। সঠিক সময়সূচী জানা না থাকলে অনেক সময় স্টেশনে গিয়ে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। তাই আমাদের আজকের আয়োজন আপনাকে সেই ভোগান্তি থেকে মুক্তি দিতে সাহায্য করবে। চলুন জেনে নিই করতোয়া এক্সপ্রেস সম্পর্কে বিস্তারিত সকল তথ্য।
করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের পরিচিতি
করতোয়া এক্সপ্রেস (ট্রেন নং ৭১৩/৭১৪) বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে পরিচালিত একটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। এটি মূলত সান্তাহার রেলওয়ে স্টেশন থেকে যাত্রা শুরু করে এবং লালমনিরহাট জেলার বুড়িমারী স্টেশন পর্যন্ত চলাচল করে। আবার বুড়িমারী থেকে ছেড়ে এসে সান্তাহার স্টেশনে যাত্রা শেষ করে। উত্তরবঙ্গের মানুষের কাছে এই ট্রেনটি বেশ আস্থার প্রতীক।
এই ট্রেনটি সান্তাহার, বগুড়া, গাইবান্ধা, কাউনিয়া, এবং লালমনিরহাটের মতো গুরুত্বপূর্ণ জেলা ও উপজেলার ওপর দিয়ে চলাচল করে। ফলে ব্যবসা-বাণিজ্য, শিক্ষা এবং চিকিৎসার প্রয়োজনে মানুষকে নিয়মিত এই ট্রেনটি ব্যবহার করতে হয়। করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ অনুযায়ী ট্রেনটি সঠিক সময়ে চলাচল করার জন্য বেশ সুনাম অর্জন করেছে। এর সিটিং অ্যারেঞ্জমেন্ট এবং যাত্রী সেবা সাধারণ মানুষের সাধ্যের মধ্যেই থাকে, যা একে আরও গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে।
আরও জেনে নিনঃ রূপসী বাংলা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬
ট্রেন ভ্রমণের ক্ষেত্রে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো সঠিক সময়সূচী জানা। করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনটি সান্তাহার থেকে যখন বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়, তখন এর নম্বর থাকে ৭১৩। আবার যখন বুড়িমারী থেকে সান্তাহারের উদ্দেশ্যে ফিরে আসে, তখন এর নম্বর হয় ৭১৪। নিচে ট্রেনটির ছাড়ার এবং পৌঁছানোর সময় বিস্তারিত আলোচনা করা হলো।
সান্তাহার থেকে বুড়িমারী (ট্রেন নং ৭১৩)
সান্তাহার জংশন থেকে করতোয়া এক্সপ্রেস যাত্রা শুরু করে সকালের দিকে। যারা দিনের শুরুতে যাত্রা করতে পছন্দ করেন, তাদের জন্য এটি বেশ সুবিধাজনক।
- ছাড়ার স্টেশন: সান্তাহার
- ছাড়ার সময়: সকাল ০৯:১৫ মিনিট
- পৌঁছানোর স্টেশন: বুড়িমারী
- পৌঁছানোর সময়: বিকাল ০৩:৪৫ মিনিট
- সাপ্তাহিক ছুটি: এই ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বা ছুটির দিন হলো বুধবার। অর্থাৎ বুধবার ট্রেনটি সান্তাহার থেকে বুড়িমারীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায় না।
বুড়িমারী থেকে সান্তাহার (ট্রেন নং ৭১৪)
ফিরতি পথে বুড়িমারী থেকে ট্রেনটি বিকালের দিকে যাত্রা শুরু করে এবং রাতে সান্তাহার পৌঁছে।
- ছাড়ার স্টেশন: বুড়িমারী
- ছাড়ার সময়: বিকাল ০৪:০০ মিনিট
- পৌঁছানোর স্টেশন: সান্তাহার
- পৌঁছানোর সময়: রাত ১০:২০ মিনিট
- সাপ্তাহিক ছুটি: ফিরতি পথেও ট্রেনটির সাপ্তাহিক বন্ধের দিন বুধবার।
যাত্রীদের সুবিধার্থে নিচে একটি ছক বা টেবিলের মাধ্যমে সময়সূচীটি পরিষ্কারভাবে তুলে ধরা হলো:
| ট্রেনের নাম | রুট | ট্রেন নং | ছাড়ার সময় | পৌঁছানোর সময় | ছুটির দিন |
| করতোয়া এক্সপ্রেস | সান্তাহার হতে বুড়িমারী | ৭১৩ | ০৯:১৫ | ১৫:৪৫ | বুধবার |
| করতোয়া এক্সপ্রেস | বুড়িমারী হতে সান্তাহার | ৭১৪ | ১৬:০০ | ২২:২০ | বুধবার |
(বিদ্র: বাংলাদেশ রেলওয়ে যেকোনো সময় সময়সূচী পরিবর্তন করার অধিকার রাখে। তাই ভ্রমণের আগে স্টেশনের নোটিশ বোর্ড বা অনলাইন থেকে আপডেট দেখে নেওয়া ভালো।)
করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশন ও সময়সূচী
একটি আন্তঃনগর ট্রেন হওয়ার পরেও করতোয়া এক্সপ্রেস বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে বিরতি দেয় বা যাত্রা বিরতি করে। এই স্টেশনগুলো উত্তরবঙ্গের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ জনপদকে সংযুক্ত করেছে। আপনি যদি মাঝখানের কোনো স্টেশন থেকে উঠতে চান বা নামতে চান, তবে এই বিরতি স্টেশনগুলোর তালিকা এবং সময়সূচী আপনার জানা থাকা প্রয়োজন।
নিচে করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ অনুযায়ী বিরতি স্টেশনগুলোর তালিকা এবং সেখানে পৌঁছানোর সময় দেওয়া হলো:
সান্তাহার থেকে বুড়িমারী যাওয়ার পথে (৭১৩) বিরতি
যখন ট্রেনটি সান্তাহার থেকে বুড়িমারীর দিকে যায়, তখন এটি বগুড়া, সোনাতলা, গাইবান্ধা, কাউনিয়া এবং লালমনিরহাটের মতো স্টেশনগুলোতে থামে।
| স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| বগুড়া | ০৯:৫৮ | ১০:০৩ |
| সোনাতলা | ১০:৩৭ | ১০:৪০ |
| মহিমাগঞ্জ | ১০:৪৯ | ১০:৫১ |
| বোনারপাড়া | ১১:০১ | ১১:০৫ |
| গাইবান্ধা | ১১:২৯ | ১১:৩২ |
| বামনডাঙ্গা | ১২:০৯ | ১২:১২ |
| পীরগাছা | ১২:৩০ | ১২:৩২ |
| কাউনিয়া | ১২:৫০ | ১৩:০০ |
| লালমনিরহাট | ১৩:২০ | ১৩:২৮ |
| আদিতমারী | ১৩:৪৫ | ১৩:৪৭ |
| কাকিনা | ১৪:০৫ | ১৪:০৭ |
| তুষভান্ডার | ১৪:১৪ | ১৪:১৬ |
| হাতিবান্ধা | ১৪:৪২ | ১৪:৪৪ |
| বারকাঁথা | ১৪:৫৫ | ১৪:৫৭ |
| পাটগ্রাম | ১৫:২০ | ১৫:২২ |
| বুড়িমারী | ১৫:৪৫ | — |
বুড়িমারী থেকে সান্তাহার আসার পথে (৭১৪) বিরতি
ফেরার পথে ট্রেনটি একই রুট ব্যবহার করে এবং নির্ধারিত স্টেশনগুলোতে বিরতি দেয়। তবে ফেরার পথে সময়ের কিছুটা ভিন্নতা থাকে।
| স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| পাটগ্রাম | ১৬:১০ | ১৬:১২ |
| বারকাঁথা | ১৬:৩৪ | ১৬:৩৬ |
| হাতিবান্ধা | ১৬:৪৬ | ১৬:৪৮ |
| তুষভান্ডার | ১৭:১৩ | ১৭:১৫ |
| কাকিনা | ১৭:২০ | ১৭:২২ |
| আদিতমারী | ১৭:৩৮ | ১৭:৪০ |
| লালমনিরহাট | ১৮:০০ | ১৮:১০ |
| কাউনিয়া | ১৮:৪৭ | ১৮:৫৫ |
| পীরগাছা | ১৯:০৬ | ১৯:০৮ |
| বামনডাঙ্গা | ১৯:২৫ | ১৯:২৭ |
| গাইবান্ধা | ১৯:৫৭ | ২০:০০ |
| বোনারপাড়া | ২০:২৩ | ২০:২৭ |
| মহিমাগঞ্জ | ২০:৩৫ | ২০:৩৭ |
| সোনাতলা | ২০:৪৫ | ২০:৪৭ |
| বগুড়া | ২১:২১ | ২১:২৯ |
| সান্তাহার | ২২:২০ | — |
এই তালিকাটি আপনাকে আপনার গন্তব্য স্টেশনে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময় সম্পর্কে ধারণা দেবে। ট্রেন ভ্রমণের সময় হাতে কিছু সময় রেখে স্টেশনে পৌঁছানো বুদ্ধিমানের কাজ।
আরও জেনে নিনঃ উপকূল এক্সপ্রেস এর সময়সূচী ও ভাড়া
করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের ভাড়ার তালিকা
ভ্রমণের পরিকল্পনার অন্যতম অংশ হলো বাজেট নির্ধারণ করা। করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ এর পাশাপাশি এর ভাড়ার তালিকা জানা থাকলে আপনি আগে থেকেই প্রস্তুতি নিতে পারবেন। এই ট্রেনে সাধারণত শোভন এবং শোভন চেয়ার এই দুই শ্রেণীর আসন ব্যবস্থা বেশি দেখা যায়। এসি বা স্নিগ্ধা কোচের প্রাপ্যতা অনেক সময় ট্রেনের রেক বা বগির ওপর নির্ভর করে। তবে সাধারণ যাত্রীদের জন্য শোভন চেয়ারই প্রধান পছন্দ।
বাংলাদেশ রেলওয়ের ভাড়ার তালিকা দূরত্বের ওপর ভিত্তি করে নির্ধারিত হয়। নিচে সান্তাহার থেকে বিভিন্ন গন্তব্যের আনুমানিক ভাড়ার একটি তালিকা দেওয়া হলো। (অনুগ্রহ করে মনে রাখবেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় ভাড়া পরিবর্তন করতে পারে এবং ভ্যাট বা অন্যান্য চার্জ যুক্ত হতে পারে)।
| স্টেশন হতে | গন্তব্য স্টেশন | শোভন (টাকা) | শোভন চেয়ার (টাকা) |
| সান্তাহার | বগুড়া | ৪৫ | ৫০ |
| সান্তাহার | গাইবান্ধা | ৯০ | ১০৫ |
| সান্তাহার | কাউনিয়া | ১২০ | ১৪৫ |
| সান্তাহার | লালমনিরহাট | ১৩৫ | ১৬০ |
| সান্তাহার | পাটগ্রাম | ১৭০ | ২০৫ |
| সান্তাহার | বুড়িমারী | ১৮৫ | ২২০ |
অনুরূপভাবে, আপনি যদি মাঝখানের কোনো স্টেশন যেমন বগুড়া থেকে উঠতে চান, তবে ভাড়া আনুপাতিক হারে কম হবে। কম খরচে আরামদায়ক ভ্রমণের জন্য এই ভাড়ার হার বাস ভাড়ার তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী। বিশেষ করে যারা পরিবার নিয়ে ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য এটি একটি বড় সুবিধা।
অনলাইনে টিকেট কাটার নিয়ম
বর্তমান ডিজিটাল যুগে স্টেশনে গিয়ে দীর্ঘ লাইনে দাঁড়িয়ে টিকেট কাটার ঝামেলা অনেকেই পোহাতে চান না। বাংলাদেশ রেলওয়ে যাত্রীদের সুবিধার্থে অনলাইনে টিকেট কাটার ব্যবস্থা করেছে। আপনি ঘরে বসেই খুব সহজে করতোয়া এক্সপ্রেসের টিকেট কাটতে পারেন।
- রেজিস্ট্রেশন: প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ই-টিকেটিং ওয়েবসাইটে গিয়ে আপনার এনআইডি (NID) এবং মোবাইল নম্বর দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে।
- লগ-ইন: রেজিস্ট্রেশন সম্পন্ন হলে মোবাইল নম্বর ও পাসওয়ার্ড দিয়ে লগ-ইন করুন।
- ৩. রুট ও তারিখ নির্বাচন: ‘From Station’ অপশনে সান্তাহার বা আপনার স্টেশন এবং ‘To Station’ অপশনে আপনার গন্তব্য লিখুন। এরপর ভ্রমণের তারিখ সিলেক্ট করুন।
- ট্রেন নির্বাচন: সার্চ বাটনে ক্লিক করলে আপনি Karatoya Express দেখতে পাবেন। সেখানে ‘View Seats’ এ ক্লিক করে আপনার পছন্দমতো সিট বেছে নিন।
- পেমেন্ট: সিট নির্বাচনের পর ‘Continue Purchase’ এ ক্লিক করে বিকাশ, নগদ বা কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
টিকেট কনফার্ম হলে আপনার ইমেইলে এবং মোবাইলে টিকেটের কপি চলে আসবে। ভ্রমণের সময় এই কপিটি প্রিন্ট করে অথবা মোবাইলে টিটিই (TTE)-কে দেখালেই চলবে। অনলাইনে টিকেট কাটার সময় মনে রাখবেন, ভ্রমণের ১০ দিন আগে থেকে টিকেট ছাড়া হয়। ছুটির দিনগুলোতে টিকেটের চাহিদা বেশি থাকে, তাই দ্রুত টিকেট কেটে নেওয়ার চেষ্টা করবেন।
নিরাপদ ট্রেন ভ্রমণের জন্য কিছু টিপস
ট্রেন ভ্রমণ আনন্দদায়ক হলেও কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা জরুরি। একটি সুষ্ঠু ভ্রমণের জন্য নিচের টিপসগুলো মেনে চলতে পারেন:
- সময়ের প্রতি লক্ষ্য রাখুন: ট্রেনের সময়সূচী মেনে চলার চেষ্টা করুন। ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে উপস্থিত থাকা ভালো। এতে তাড়াহুড়ো এড়ানো যায়।
- সঠিক টিকেট: কখনোই টিকেট ছাড়া ভ্রমণ করবেন না। এটি আইনত দণ্ডনীয় অপরাধ। আপনার সাথে থাকা শিশুদের বয়স ৩ বছরের বেশি হলে তাদের জন্য টিকেট সংগ্রহ করুন।
- মালামাল সাবধানে রাখুন: ট্রেন যাত্রায় নিজের ব্যাগ ও মূল্যবান জিনিসের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখুন। অপরিচিত কারো দেওয়া খাবার খাবেন না।
- স্টেশন খেয়াল রাখা: আপনি যে স্টেশনে নামবেন, তার আগের স্টেশনটি পার হওয়ার পরপরই নামার প্রস্তুতি নিন। বিশেষ করে বিরতি সময় কম এমন স্টেশনগুলোতে নামার সময় চটজলদি করতে হয়।
- স্বাস্থ্যবিধি: ট্রেনে অনেক মানুষের সমাগম হয়, তাই পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখুন। ট্রেনের ভেতরে ময়লা না ফেলে নির্দিষ্ট ঝুড়িতে ফেলুন।
উত্তরবঙ্গের যোগাযোগে করতোয়া এক্সপ্রেসের ভূমিকা
উত্তরবঙ্গের জেলাগুলোর মধ্যে আন্তঃযোগাযোগ ব্যবস্থায় করতোয়া এক্সপ্রেস একটি লাইফলাইন হিসেবে কাজ করে। বিশেষ করে লালমনিরহাট জেলার পাটগ্রাম ও বুড়িমারী স্থলবন্দরের সাথে দেশের অন্যান্য অঞ্চলের সংযোগ স্থাপনে এই ট্রেনের ভূমিকা অপরিসীম। ব্যবসায়ীরা বুড়িমারী স্থলবন্দর থেকে পণ্য আনা-নেওয়ার কাজে এবং সাধারণ যাত্রীরা ভারতে যাতায়াতের জন্য (বুড়িমারী বর্ডার দিয়ে) এই রুটটি ব্যবহার করেন।
বগুড়া এবং গাইবান্ধার মতো বড় শহরগুলোর শিক্ষার্থীদের জন্যও এই ট্রেনটি অনেক উপকারী। রংপুর বা লালমনিরহাটের শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যাতায়াতের জন্য অনেক শিক্ষার্থী এই ট্রেনের ওপর নির্ভর করে। সড়ক পথের যানজট এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি এড়াতে মানুষ এখন রেলপথকেই বেশি নিরাপদ মনে করছে। সেই হিসেবে করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬ এবং এর নিয়মিত চলাচল এই অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নয়নে সহায়ক ভূমিকা পালন করছে।
প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
করতোয়া এক্সপ্রেস সপ্তাহে কত দিন চলে?
করতোয়া এক্সপ্রেস সপ্তাহে ৬ দিন চলাচল করে। এর সাপ্তাহিক বন্ধের দিন হলো বুধবার।
সান্তাহার থেকে বুড়িমারী যেতে কত সময় লাগে?
সময়সূচী অনুযায়ী সান্তাহার থেকে বুড়িমারী যেতে প্রায় ৬ ঘণ্টা ৩০ মিনিট সময় লাগে।
করতোয়া এক্সপ্রেসে কি খাবার পাওয়া যায়?
আন্তঃনগর ট্রেন হওয়ায় এতে সাধারণত ক্যাটারিং বা খাবার বগি সংযুক্ত থাকে না। তবে হকারদের মাধ্যমে হালকা খাবার ও পানীয় কেনা যায়। নিজস্ব খাবার সাথে রাখা সবচেয়ে ভালো।
অনলাইনে কি এই ট্রেনের টিকেট পাওয়া যায়?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপের মাধ্যমে এই ট্রেনের টিকেট অনলাইনে কেনা যায়।
করতোয়া এক্সপ্রেসের টিকেট কি ফেরত দেওয়া যায়?
হ্যাঁ, অনলাইনে বা কাউন্টারে কেনা টিকেট নির্দিষ্ট চার্জ কেটে ফেরত দেওয়া যায়। তবে এটি ট্রেন ছাড়ার নির্দিষ্ট সময় আগে করতে হয়।
শেষ কথা
পরিশেষে বলা যায়, উত্তরবঙ্গের মনোরম প্রাকৃতিক দৃশ্যের মধ্য দিয়ে ট্রেন ভ্রমণ করতে চাইলে করতোয়া এক্সপ্রেস একটি চমৎকার পছন্দ। এর সময়ানুবর্তিতা এবং যাত্রীসেবা একে যাত্রীদের কাছে গ্রহণযোগ্য করে তুলেছে। আপনি যদি সান্তাহার, বগুড়া, গাইবান্ধা বা লালমনিরহাটের যাত্রী হন, তবে এই ট্রেনটি আপনার যাতায়াতকে সহজ ও আরামদায়ক করবে। আশা করি, আজকের এই আর্টিকেলে করতোয়া এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬, ভাড়ার তালিকা এবং অন্যান্য তথ্য জেনে আপনারা উপকৃত হয়েছেন। আপনার পরবর্তী ভ্রমণ নিরাপদ ও আনন্দময় হোক এই কামনাই করি।
ট্রেন সম্পর্কিত যেকোনো আপডেট তথ্যের জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল নোটিশের ওপর নজর রাখবেন। আমাদের দেওয়া তথ্যগুলো আপনার ভ্রমণে সহায়ক হলে বন্ধুদের সাথে শেয়ার করতে ভুলবেন না।



