Express Train

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট ও ভাড়ার তালিকা

বাংলাদেশের প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের লীলাভূমি বলা হয় সিলেটকে। চা বাগান, ঝর্ণা আর পাহাড়ের মিতালি দেখতে প্রতিদিন হাজারো পর্যটক ঢাকা থেকে সিলেটে ভ্রমণ করেন। আর এই ভ্রমণে পর্যটক এবং সাধারণ যাত্রীদের প্রথম পছন্দ হলো ট্রেন ভ্রমণ। ঢাকা থেকে সিলেট রুটে যে কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করে তার মধ্যে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী এবং সেবা যাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। আপনি যদি এই রুটে নিরাপদ এবং আরামদায়ক ভ্রমণের পরিকল্পনা করে থাকেন। তবে এই ট্রেনটি আপনার জন্য একটি চমৎকার পছন্দ হতে পারে।

সড়ক পথের যানজট আর ভোগান্তি এড়িয়ে ট্রেনের ঝিকঝিক শব্দে চায়ের দেশের পথে যাত্রা করার অনুভূতিই আলাদা। বিশেষ করে যখন ট্রেনটি লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যান কিংবা চায়ের বাগানের পাশ দিয়ে ছুটে চলে। তখন জানল দিয়ে বাইরের দৃশ্য দেখার মজাই আলাদা। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা আলোচনা করবো জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী, টিকেট কাটার নিয়ম, ভাড়ার তালিকা এবং যাত্রাপথের বিরতি স্টেশনগুলো নিয়ে বিস্তারিত তথ্য।

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস: ঢাকা-সিলেট রুট

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে পরিচালিত অন্যতম একটি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন। এটি মূলত ঢাকা এবং সিলেট জেলার মধ্যে চলাচল করে। ট্রেনটির নম্বর ৭১৭ (ঢাকা থেকে সিলেট) ও ৭১৮ (সিলেট থেকে ঢাকা)। দীর্ঘ সময় ধরে যাত্রী সেবায় নিয়োজিত এই ট্রেনটি তার সময়ানুবর্তিতা এবং সুযোগ-সুবিধার জন্য যাত্রীদের আস্থার প্রতীক হয়ে উঠেছে।

যারা কম খরচে অথচ আরামে ভ্রমণ করতে চান? তাদের জন্য এই ট্রেনটিতে রয়েছে শোভন চেয়ারের ব্যবস্থা। আবার যারা একটু বিলাসবহুলভাবে যাত্রা করতে পছন্দ করেন তাদের জন্য রয়েছে স্নিগ্ধা ও এসি সিটের ব্যবস্থা। ট্রেনটিতে নামাজ পড়ার জন্য আলাদা জায়গা ও খাবারের জন্য ক্যান্টিন সুবিধা রয়েছে। যা দীর্ঘ যাত্রাপথে যাত্রীদের ক্লান্তি দূর করতে সহায়তা করে। বিশেষ করে পরিবারের সদস্য বা বয়স্কদের নিয়ে ভ্রমণের ক্ষেত্রে এই ট্রেনের সুবিধাগুলো বেশ কার্যকরী।

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী

ভ্রমণের প্রস্তুতির মূল অংশ হলো সঠিক সময়সূচী জানা। অনেক সময় ট্রেনের সময় পরিবর্তন হয়, তাই ভ্রমণের আগে আপডেটেড সময়সূচী জেনে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি ঢাকা এবং সিলেট উভয় প্রান্ত থেকেই নির্দিষ্ট সময়ে ছেড়ে যায়। নিচে বিস্তারিত সময়সূচী আলোচনা করা হলো।

ঢাকা থেকে সিলেট যাত্রা (ট্রেন নং ৭১৭)

ঢাকা থেকে সিলেটের উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনটির নাম জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস এবং এর কোড ৭১৭। কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশন থেকে এটি ছেড়ে যায়। যাত্রীদের সুবিধার্থে ট্রেনটি দুপুরের আগেই যাত্রা শুরু করে, ফলে বিকেলের মধ্যেই বা সন্ধ্যার শুরুতে যাত্রীরা সিলেটে পৌঁছে যেতে পারেন। দিনের আলোয় যাত্রাপথের দৃশ্য উপভোগ করার জন্য এই সময়টি একদম উপযুক্ত।

সিলেট থেকে ঢাকা যাত্রা (ট্রেন নং ৭১৮)

সিলেট থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ট্রেনটির কোড ৭১৮। যারা সিলেট ভ্রমণ শেষে বা প্রয়োজনীয় কাজ শেষে ঢাকায় ফিরতে চান তাদের জন্য এটি দুপুরের দিকে যাত্রা শুরু করে। নিচে একটি ছকের মাধ্যমে বিস্তারিত সময়সূচী তুলে ধরা হলো। মনে রাখবেন, রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় এই সময়সূচী পরিবর্তন করার অধিকার রাখে।

সময়সূচীর তালিকা

রুটট্রেনের কোডসাপ্তাহিক ছুটিছাড়ার সময়পৌঁছানোর সময়
ঢাকা টু সিলেট৭১৭মঙ্গলবার১১:১৫১৯:০০
সিলেট টু ঢাকা৭১৮বৃহস্পতিবার১২:০০১৯:২৫

এখানে লক্ষ্যণীয় যে, ঢাকা থেকে ছেড়ে যাওয়ার সময় ট্রেনটির সাপ্তাহিক ছুটির দিন মঙ্গলবার। আবার সিলেট থেকে ফেরার পথে এর সাপ্তাহিক ছুটি বৃহস্পতিবার। অর্থাৎ আপনি যদি মঙ্গলবার ঢাকা থেকে বা বৃহস্পতিবার সিলেট থেকে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন থাকেন। তাহলে আপনাকে অন্য ট্রেনের কথা বিবেচনা করতে হবে।

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের বিরতি স্টেশন ও সময়সূচী

আন্তঃনগর ট্রেন হলেও জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস বেশ কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। এর ফলে মধ্যবর্তী জেলার যাত্রীরাও সহজে এই ট্রেনে যাতায়াত করতে পারেন। বিশেষ করে ভৈরব, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, শায়েস্তাগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলের যাত্রীদের জন্য এই বিরতিগুলো খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

অনেক পর্যটক সরাসরি সিলেটে না গিয়ে শ্রীমঙ্গলে নামেন চা বাগান দেখার জন্য। তাদের জন্যও এই ট্রেনের স্টপেজগুলো জানা প্রয়োজন। নিচে বিরতি স্টেশন ও সেখানে পৌঁছানোর সম্ভাব্য সময়ের একটি তালিকা দেওয়া হলো। তবে মনে রাখবেন ক্রসিং বা যান্ত্রিক কারণে এই সময়ে কিছুটা হেরফের হতে পারে।

বিরতি স্টেশন নামঢাকা থেকে (৭১৭) পৌঁছানোর সময়সিলেট থেকে (৭১৮) ছাড়ার সময়
বিমান বন্দর১১:৩৮১৭:৪৭
আশুগঞ্জ১২:৫৪১৭:২৮
ব্রাহ্মণবাড়িয়া১৩:১১১৭:০৯
আজমপুর১৩:৩৭১৬:৪৬
মুকুন্দপুর১৩:৫২১৬:২৯
হরষপুর১৪:০৪১৬:১৭
মনতলা১৪:১৭১৬:০৬
নোয়াপাড়া১৪:৪৭১৫:৫০
শাহজীবাজার১৫:০০১৫:৩৭
শায়েস্তাগঞ্জ১৫:১৫১৫:২২
শ্রীমঙ্গল১৬:০১১৪:৪০
ভানুগাছ১৬:২৩১৪:১৯
কুলাউড়া১৭:১১১৩:১৭
মাইজগাঁও১৭:৪১১২:৪৮

এই স্টেশনগুলোতে ট্রেনটি সাধারণত ২ থেকে ৫ মিনিট পর্যন্ত বিরতি দেয়। তাই আপনি যদি মধ্যবর্তী কোনো স্টেশনে নামতে চান তাহলে ট্রেন থামার সাথে সাথেই প্রস্তুত থাকতে হবে। বিশেষ করে শ্রীমঙ্গল ও কুলাউড়া স্টেশনে যাত্রীদের বেশ ভিড় থাকে।

ট্রেনের আসন ব্যবস্থা ও ভাড়ার তালিকা

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনে সব ধরণের যাত্রীদের কথা বিবেচনা করে বিভিন্ন ক্যাটাগরির আসন ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। প্রতিটি আসনের মূল্য ভিন্ন ও এর সাথে সরকারি ভ্যাট প্রযোজ্য থাকে। আপনি আপনার বাজেট ও পছন্দ অনুযায়ী টিকেট কাটতে পারেন।

সাধারণত তিন ধরণের আসন এই ট্রেনে পাওয়া যায়:

  • শোভন চেয়ার: এটি সাধারণ যাত্রীদের জন্য সবচেয়ে জনপ্রিয়। সিটগুলো বেশ আরামদায়ক এবং ভাড়া সাশ্রয়ী।
  • স্নিগ্ধা (এসি): যারা গরমে বা ধূলাবালি এড়িয়ে ঠান্ডা পরিবেশে ভ্রমণ করতে চান, তাদের জন্য স্নিগ্ধা ক্লাস সেরা। এর জানালাগুলো বন্ধ থাকে এবং পুরো বগিটি শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত।
  • এসি সিট/প্রথম সিট: এটি আরও উন্নত মানের আসন ব্যবস্থা, যেখানে লেগ স্পেস বেশি থাকে এবং ভ্রমণের স্বাচ্ছন্দ্য বেশি পাওয়া যায়।

নিচে ভাড়ার একটি তালিকা দেওয়া হলো। উল্লেখ্য যে এই ভাড়ার সাথে সাধারণত ১৫% ভ্যাট যুক্ত থাকে । তবে অনলাইন বা কাউন্টারে প্রদর্শিত মূল্যে ভ্যাট যুক্ত করেই দেখানো হয়।

আসন বিভাগটিকেটের মূল্য (১৫% ভ্যাট ও অন্যান্য চার্জসহ আনুমানিক)
শোভন চেয়ার৩৭৫ টাকা
স্নিগ্ধা৭১৯ টাকা
এসি সিট৮৬৩ টাকা

বিদ্র: ভাড়ার হার বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক যেকোনো সময় পরিবর্তিত হতে পারে। টিকেট কাটার সময় বর্তমান ভাড়াটি নিশ্চিত হয়ে নিন।

টিকেট কাটার নিয়ম ও পদ্ধতি

প্রযুক্তির কল্যাণে এখন ট্রেনের টিকেট কাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। আপনি ঘরে বসেই আপনার স্মার্টফোন বা ল্যাপটপের মাধ্যমে টিকেট সংগ্রহ করতে পারেন। আবার সনাতন পদ্ধতিতে স্টেশনে গিয়েও টিকেট কাটার সুযোগ রয়েছে।

অনলাইন টিকেট বুকিং পদ্ধতি

বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট এবং ‘Rail Sheba’ অ্যাপের মাধ্যমে খুব সহজেই টিকেট কাটা যায়।

  • প্রথমে রেলওয়ের ওয়েবসাইটে (eticket.railway.gov.bd) প্রবেশ করে নিজের মোবাইল নম্বর ও এনআইডি দিয়ে নিবন্ধন করুন।
  • লগ-ইন করার পর যাত্রার তারিখ, প্রারম্ভিক স্টেশন (ঢাকা) এবং গন্তব্য স্টেশন (সিলেট) নির্বাচন করুন।
  • এরপর ট্রেনের তালিকায় ‘Jayantika Express’ খুঁজে বের করুন এবং আপনার পছন্দমতো আসন (শোভন বা স্নিগ্ধা) সিলেক্ট করুন।
  • বিকাশ, নগদ বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
  • পেমেন্ট শেষে টিকেটটি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিন অথবা মোবাইলে সেভ করে রাখুন। যাত্রার সময় টিকেট চেকারকে মোবাইলের কপি দেখালেই চলবে।

কাউন্টার থেকে টিকেট সংগ্রহ

যারা অনলাইনে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন না, তারা কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশনে গিয়ে সরাসরি কাউন্টার থেকে টিকেট কাটতে পারেন। তবে মনে রাখবেন আন্তঃনগর ট্রেনের টিকেট যাত্রার ১০ দিন আগে থেকে অনলাইনে ছাড়া হয় এবং দ্রুত শেষ হয়ে যায়। তাই যাত্রার তারিখ ঠিক করার সাথে সাথেই টিকেট কেটে ফেলা বুদ্ধিমানের কাজ।

ভ্রমণে কিছু প্রয়োজনীয় সতর্কতা ও টিপস

ঢাকা-সিলেট রুটটি বেশ দীর্ঘ এবং সময়সাপেক্ষ। প্রায় ৭ থেকে ৮ ঘণ্টার এই জার্নি যাতে আরামদায়ক হয় সেজন্য একজন এক্সপার্ট হিসেবে কিছু পরামর্শ দিচ্ছি:

  • খাবার ও পানি: ট্রেনের ভেতরে ক্যান্টিন বা প্যান্ট্রি কার রয়েছে। সেখানে বার্গার, চিপস, চা, কফি এবং দুপুরের খাবার (বিরিয়ানি বা খিচুড়ি) পাওয়া যায়। তবে বাইরের খাবার এড়িয়ে চলা ভালো। নিজের সাথে পর্যাপ্ত পানি এবং শুকনো খাবার রাখা বুদ্ধিমানের কাজ।
  • লাগেজ সতর্কতা: নিজের মালামাল সব সময় নজরে রাখবেন। বিশেষ করে জানালার পাশে বসলে মোবাইল ফোন বা ব্যাগ সাবধানে রাখুন। বিরতি স্টেশনগুলোতে হকার বা ভিক্ষুকদের ব্যাপারে সতর্ক থাকুন।
  • সময়ে স্টেশনে পৌঁছানো: ঢাকার ট্রাফিক জ্যামের কথা মাথায় রেখে ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন। কমলাপুর স্টেশনে অনেক সময় প্ল্যাটফর্ম খুঁজে পেতে সময় লাগে।
  • টিকেট সংরক্ষণ: ভ্রমণের পুরো সময় টিকেটটি যত্ন করে রাখুন। টিকেট হারিয়ে গেলে জরিমানার সম্মুখিন হতে পারেন।
  • প্রকৃতি দেখা: এই রুটের সেরা অংশ হলো লাউয়াছড়া বনের ভেতর দিয়ে ট্রেন যাওয়ার সময়। শ্রীমঙ্গল পার হওয়ার পর জানালার দিকে চোখ রাখলে অপূর্ব সব দৃশ্য দেখতে পাবেন। ক্যামেরা বা মোবাইল প্রস্তুত রাখতে পারেন ছবি তোলার জন্য।

কেন জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস বেছে নেবেন?

অনেকে প্রশ্ন করেন, বাসে না গিয়ে ট্রেনে কেন যাবো? এর প্রধান কারণ হলো নিরাপত্তা ও আরাম। বাসে দীর্ঘ সময় বসে থাকলে শরীর ব্যথা হতে পারে কিন্তু ট্রেনে হাঁটাচলা করার সুযোগ থাকে। তাছাড়া ট্রেনের টয়লেট সুবিধা এবং নামাজের ব্যবস্থা থাকায় দীর্ঘ ভ্রমণে কোনো অসুবিধা হয় না। ঢাকা-সিলেট মহাসড়কে প্রায়ই যানজট বা দুর্ঘটনার খবর পাওয়া যায়, সে তুলনায় ট্রেন ভ্রমণ অনেক বেশি নিরাপদ।

এছাড়া জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস দিনের বেলা চলাচল করায় আপনি বাংলাদেশের গ্রামীণ সৌন্দর্য উপভোগ করতে পারবেন। ভৈরব ব্রিজের ওপর দিয়ে মেঘনা নদী পার হওয়ার দৃশ্য কিংবা সিলেটের পাহাড়ী টিলার মাঝ দিয়ে ট্রেন ছুটে চলার দৃশ্য আপনার মন ভালো করে দেবে।

টিকেট রিফান্ড পলিসি

কোনো কারণে যদি আপনার যাত্রা বাতিল করতে হয়, তবে আপনি টিকেটের টাকা ফেরত পেতে পারেন। তবে এর জন্য কিছু নিয়ম আছে।

  • যাত্রা শুরুর ৪৮ ঘণ্টা আগে টিকেট ফেরত দিলে নির্দিষ্ট সার্ভিস চার্জ কেটে বাকি টাকা ফেরত দেওয়া হয়।
  • সময় যত কমবে কাটার পরিমাণ তত বাড়বে।
  • অনলাইনে কাটা টিকেট অনলাইনেই রিফান্ড রিকোয়েস্ট করা যায়। যা কয়েক কার্যদিবসের মধ্যে আপনার একাউন্টে ফেরত আসে।

প্রশ্ন ও উত্তর (FAQ)

জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনটি সপ্তাহে কতদিন চলে?

ট্রেনটি সপ্তাহের ৬ দিন চলাচল করে। ঢাকা থেকে মঙ্গলবার এবং সিলেট থেকে বৃহস্পতিবার এটি বন্ধ থাকে।

ঢাকা থেকে সিলেট যেতে জয়ন্তিকা এক্সপ্রেসে কত সময় লাগে?

সময়সূচী অনুযায়ী প্রায় ৭ ঘণ্টা ৪৫ মিনিট সময় লাগে। তবে যাত্রাপথে ক্রসিং বা বিলম্বের কারণে সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে।

ট্রেনের টিকেট কি যাত্রার দিন পাওয়া যায়?

সাধারণত যাত্রার দিন টিকেট পাওয়া খুব কঠিন, বিশেষ করে ছুটির দিনগুলোতে। তাই অন্তত ৫-৭ দিন আগে টিকেট কেটে রাখা ভালো। তবে অনেক সময় যাত্রার দিন কাউন্টারে ‘স্ট্যান্ডিং টিকেট’ পাওয়া যায়।

এই ট্রেনে কি খাবার বিনামূল্যে দেওয়া হয়?

না, টিকিটের মূল্যের সাথে খাবারের দাম অন্তর্ভুক্ত নয়।

অনলাইনে কাটা টিকেট কি প্রিন্ট করতে হবে?

বর্তমানে প্রিন্ট করা বাধ্যতামূলক নয়। আপনার স্মার্টফোনে থাকা টিকেটের পিডিএফ কপি এবং সাথে এনআইডি কার্ড দেখালেই ভ্রমণ করা যায়।

শেষ কথা

ভ্রমণ মানেই নতুন অভিজ্ঞতা আর আনন্দ। আর সেই ভ্রমণ যদি হয় নিরাপদ ও আরামদায়কভাবে তাহলেতো কথাই নেই। জয়ন্তিকা এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও অন্যান্য তথ্য জানা থাকলে আপনার সিলেট ভ্রমণ হবে সুন্দর । আশা করি আজকের এই আর্টিকেলের মাধ্যমে আপনি টিকেট বুকিং, ভাড়া এবং সময়সূচী সম্পর্কে স্বচ্ছ ধারণা পেয়েছেন। পরিবার বা বন্ধুদের নিয়ে চায়ের দেশ সিলেটে আপনার যাত্রা হোক আনন্দময়। ট্রেনের জানালায় চোখ রেখে সবুজ বাংলার রূপ দেখতে দেখতে পৌঁছে যান আপনার গন্তব্যে। আপনার ভ্রমণ নিরাপদ ও সুখকর হোক সেই কামনাই করি।

Md Shihab Hossen

আমি রেলওয়ে বিষয়ে প্রতিনিয়ত আপডেট তথ্য প্রদান করে থাকি। আমার উদ্দেশ্য সকলকে সঠিক তথ্য প্রদান করা এবং সকল সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button