Express Train

জয়দেবপুর টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬। ভাড়া ও টিকেট তথ্য

গাজীপুরের জয়দেবপুর থেকে রাজধানী ঢাকা মাত্র ২৩ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। যাতায়াতের সহজ ও আরামদায়ক মাধ্যম হিসেবে ট্রেন বর্তমানে অনেকের পছন্দের শীর্ষে। প্রতিদিন অসংখ্য মানুষ কাজ, পড়াশোনা বা ব্যবসার প্রয়োজনে এই রুটে যাতায়াত করেন। জয়দেবপুর টু ঢাকা রুটে নিয়মিত প্রায় ১২টি আন্তঃনগর ট্রেন ও বেশ কয়েকটি মেইল ট্রেন চলাচল করে। যারা ঢাকার যানজট এড়িয়ে দ্রুত গন্তব্যে পৌঁছাতে চান, তাদের জন্য সঠিক সময়সূচি জানা খুবই জরুরি। এই লেখায় ২০২৬ সালের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী ট্রেনের তালিকা, সময় ও ভাড়ার বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হলো।

জয়দেবপুর টু ঢাকা চলাচলকারী ট্রেনের নাম ও নম্বর

গাজীপুরের জয়দেবপুর স্টেশন থেকে ঢাকার কমলাপুর বা বিমানবন্দর স্টেশনে যাওয়ার জন্য বর্তমানে ১২টি জনপ্রিয় আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে। এই ট্রেনগুলো উত্তরবঙ্গ ও উত্তর-পূর্ববঙ্গ থেকে এসে জয়দেবপুর হয়ে ঢাকায় প্রবেশ করে। নিচে ট্রেনগুলোর নাম ও নম্বর দেওয়া হলো:

  • একতা এক্সপ্রেস (৭০৬)
  • যমুনা এক্সপ্রেস (৭৪৬)
  • লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫২)
  • সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৪)
  • দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৮)
  • পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৬০)
  • চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৩)
  • ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৭০)
  • সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৭৫)
  • হাওর এক্সপ্রেস (৭৭৮)
  • চিলাহাটি এক্সপ্রেস (৮০৬)
  • টাঙ্গাইল কমিউটার (১০৩৪)

জয়দেবপুর টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী ২০২৬

জয়দেবপুর থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া আন্তঃনগর ট্রেনগুলোর সময়সূচি নিচে ছক আকারে দেওয়া হলো।ট্রেনের নাম ও নম্বরসাপ্তাহিক ছুটির দিনজয়দেবপুর ছাড়ার সময়ঢাকা পৌঁছানোর সময়ঃ

যমুনা এক্সপ্রেস (৭৪৬) ছুটি নেই ভোর ০৬:১৪ সকাল ০৭:৩০
একতা এক্সপ্রেস (৭০৬) ছুটি নেই সকাল ০৬:৫০ সকাল ০৭:৫০
টাঙ্গাইল কমিউটার (১০৩৪) শুক্রবার সকাল ০৮:১২ সকাল ০৯:৪০
সিরাজগঞ্জ এক্সপ্রেস (৭৭৫) শনিবার সকাল ০৯:১৬ সকাল ১০:১০
সিল্কসিটি এক্সপ্রেস (৭৫৪) রবিবার দুপুর ১২:২৩ দুপুর ০১:২০
হাওর এক্সপ্রেস (৭৭৮) বৃহস্পতিবার দুপুর ১২:৩৭ দুপুর ০১:৪০
চিলাহাটি এক্সপ্রেস (৮০৬) শনিবার দুপুর ০১:৫৩ দুপুর ০২:৫০
দ্রুতযান এক্সপ্রেস (৭৫৮) ছুটি নেই সন্ধ্যা ০৬:০০ সন্ধ্যা ০৬:৫৫
পদ্মা এক্সপ্রেস (৭৬০) ছুটি নেই সন্ধ্যা ০৬:০০ সন্ধ্যা ০৬:৫৫
লালমনি এক্সপ্রেস (৭৫২) শুক্রবার সন্ধ্যা ০৬:৪৩ সন্ধ্যা ০৭:৪০
চিত্রা এক্সপ্রেস (৭৬৩) মঙ্গলবার রাত ০৮:২৫ রাত ০৯:২৫
ধূমকেতু এক্সপ্রেস (৭৭০) বুধবার রাত ০৩:৫২ ভোর ০৫:০০

বিশেষ সতর্কতা: বাংলাদেশ রেলওয়ে প্রাকৃতিক দুর্যোগ, বিশেষ প্রয়োজন বা অন্য যেকোনো প্রয়োজনে সময়সূচি পরিবর্তন করতে পারে। তাই ভ্রমণের আগে স্টেশনে বা অনলাইনে সর্বশেষ সময় যাচাই করে নেওয়া ভালো। স্টেশনে আসন নিশ্চিত করতে অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে পৌঁছানোর চেষ্টা করবেন।

জয়দেবপুর টু ঢাকা ট্রেনের ভাড়া ২০২৬

জয়দেবপুর থেকে ঢাকা রুটের ভাড়া বাস ও সিএনজির তুলনায় অনেক কম। আসন ভেদে ভাড়ার পার্থক্য হয়। এই ভাড়ার সাথে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃক নির্ধারিত ১৫ শতাংশ ভ্যাট অন্তর্ভুক্ত থাকে। নিচে আসন বিভাগ অনুযায়ী ভাড়া দেওয়া হলো:

শোভন ৪৫ (টাকা)
শোভন চেয়ার ৫০ (টাকা)
১ম সিট ১০৪ (টাকা)
স্নিগ্ধা ১১৫ (টাকা)
এসি ১২৭ (টাকা)
এসি বার্থ ১৫০ (টাকা)

টিকিট কাটার সময় নির্ধারিত মূল্যের চেয়ে বেশি কাউকে দেবেন না। কাউন্টার বা অনলাইনে প্রদর্শিত মূল্যই সঠিক।

জয়দেবপুর টু ঢাকা ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম

আপনি চাইলে দুইভাবে টিকিট সংগ্রহ করতে পারেন: অফলাইন ও অনলাইন।

অফলাইন পদ্ধতি (স্টেশন কাউন্টার)

সরাসরি জয়দেবপুর রেলওয়ে স্টেশনের টিকিট কাউন্টারে গিয়ে গন্তব্য ও আসন বিভাগ জানিয়ে টিকিট কাটতে পারেন। আন্তঃনগর ট্রেনের টিকিটের চাহিদা বেশি থাকায় যাত্রার অন্তত ৩-৭ দিন আগে টিকিট কেটে নেওয়া ভালো।

অনলাইন টিকিট কাটার নিয়ম

বর্তমানে ঘরে বসেই স্মার্টফোনের মাধ্যমে জয়দেবপুর টু ঢাকা ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা যায়। নিচে ধাপে ধাপে পদ্ধতি দেওয়া হলো:

  • প্রথমে eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে প্রবেশ করুন।
  • মোবাইল নম্বর, এনআইডি (NID) ও ইমেইল দিয়ে অ্যাকাউন্ট তৈরি করুন।
  • লগইন করার পর ‘From’ বক্সে Joydebpur এবং ‘To’ বক্সে Dhaka নির্বাচন করুন।
  • যাত্রার তারিখ ও পছন্দের ক্লাস বাছাই করে ট্রেন সার্চ করুন।
  • আসন খালি থাকলে ‘Book Now’ বাটনে ক্লিক করে নির্দিষ্ট আসন নির্বাচন করুন।
  • বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
  • পেমেন্ট শেষে ইমেইলে অনলাইন টিকিটের কপি আসবে, যা ডাউনলোড ও প্রিন্ট করে নিতে পারেন।

অনলাইনে টিকিট কাটলে অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ যোগ হতে পারে।

জয়দেবপুর টু ঢাকা কত কিলোমিটার ও কত সময় লাগে?

জয়দেবপুর থেকে ঢাকার রেলপথের দূরত্ব প্রায় ২৩ কিলোমিটার। আন্তঃনগর ট্রেনগুলো এই পথ অতিক্রম করতে সর্বনিম্ন ৪৫ মিনিট থেকে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা সময় নেয়। লোকাল বা মেইল ট্রেনের ক্ষেত্রে স্টপেজ বেশি থাকায় সময় কিছুটা বেশি লাগতে পারে। তবে সড়কপথের তুলনায় রেলপথে সময় ও খরচ উভয়ই সাশ্রয় হয়।

জয়দেবপুর থেকে ঢাকা ভ্রমণের প্রয়োজনীয় টিপস

যারা নিয়মিত বা মাঝে মাঝে এই রুটে ভ্রমণ করেন, তাদের জন্য কয়েকটি টিপস জেনে রাখা ভালো:

  • ট্রেন ছাড়ার অন্তত ২০-৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানোর চেষ্টা করুন।
  • ট্রেনে ভ্রমণের সময় নিজের ব্যাগ ও মূল্যবান জিনিসের প্রতি সতর্ক থাকুন।
  • ভিড় এড়াতে অনলাইনে অগ্রিম টিকিট কাটা ভালো।
  • আপনার নির্বাচিত ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটি আছে কিনা আগেই জেনে নিন।
  • স্টেশনে নামার আগে নিজের লাগেজ ও আসনের আশপাশ চেক করে নিন।

জয়দেবপুর টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচী নিয়ে সাধারণ জিজ্ঞাসা

প্রশ্ন ১: জয়দেবপুর থেকে ঢাকা যেতে সবচেয়ে দ্রুত কোন ট্রেন যায়?
উত্তর: একতা এক্সপ্রেস, দ্রুতযান এক্সপ্রেস ও পদ্মা এক্সপ্রেস সাধারণত সবচেয়ে কম সময়ে পৌঁছায়। এদের ভ্রমণ সময় প্রায় ৪৫-৫০ মিনিট।

প্রশ্ন ২: জয়দেবপুর টু ঢাকা ট্রেনের সর্বনিম্ন ভাড়া কত?
উত্তর: এই রুটে সর্বনিম্ন ভাড়া ৪৫ টাকা (শোভন শ্রেণি)।

প্রশ্ন ৩: টিকিট কি সরাসরি স্টেশনে গেলেই পাওয়া যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, আসন খালি থাকলে স্টেশনের কাউন্টার থেকে টিকিট পাওয়া যায়। তবে আসন নিশ্চিত করতে অগ্রিম টিকিট নেওয়া ভালো।

প্রশ্ন ৪: জয়দেবপুর থেকে ঢাকা ট্রেনে কত স্টপেজ আছে?
উত্তর: এই রুটে আন্তঃনগর ট্রেনগুলো সাধারণত টঙ্গী ও বিমানবন্দর স্টেশনে যাত্রাবিরতি দেয়। তবে কমিউটার ট্রেনে স্টপেজ সংখ্যা বেশি।

প্রশ্ন ৫: ট্রেনের সময়সূচি কি মোবাইল অ্যাপে দেখা যায়?
উত্তর: হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল অ্যাপ ও eticket.railway.gov.bd ওয়েবসাইটে আপডেট সময়সূচি দেখা যায়।

প্রশ্ন ৬: জয়দেবপুর থেকে রাতের বেলায় কোনো ট্রেন আছে?
উত্তর: হ্যাঁ, ধূমকেতু এক্সপ্রেস রাত ০৩:৫২ টায় ছাড়ে এবং চিত্রা এক্সপ্রেস রাত ০৮:২৫-এ ছাড়ে।

প্রশ্ন ৭: ঢাকায় পৌঁছানোর পর কোন স্টেশনে নামা হয়?
উত্তর: অধিকাংশ ট্রেন কমলাপুর রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। তবে কিছু ট্রেন বিমানবন্দর স্টেশনেও যাত্রাবিরতি দেয়।

প্রশ্ন ৮: টিকিট বাতিল করলে কি টাকা ফেরত পাওয়া যায়?
উত্তর: টিকিট বাতিল করলে রেলওয়ের নির্ধারিত নীতিমালা অনুযায়ী নির্দিষ্ট পরিমাণ টাকা ফেরত দেওয়া হয়। অনলাইনে কেনা টিকিটের ক্ষেত্রেও এই সুবিধা আছে।

আশা করি এই লেখায় জয়দেবপুর টু ঢাকা ট্রেনের সময়সূচি ও ভাড়ার পুরো তথ্য পেয়েছেন। ট্রেন ভ্রমণ তুলনামূলক সস্তা ও সময় সাশ্রয়ী। তবে ট্রেনের সময়সূচিতে মাঝে মাঝে পরিবর্তন আসতে পারে। যাত্রার আগে একবার রেলওয়ের অফিসিয়াল সোর্স থেকে নিশ্চিত হয়ে নেওয়া ভালো।

Md Shihab Hossen

আমি রেলওয়ে বিষয়ে প্রতিনিয়ত আপডেট তথ্য প্রদান করে থাকি। আমার উদ্দেশ্য সকলকে সঠিক তথ্য প্রদান করা এবং সকল সাধারণ মানুষকে সাহায্য করা।

Related Articles

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Back to top button