নকশিকাথা কমিউটার সময়সূচি ও ভাড়া ২০২৬
বাংলাদেশের পশ্চিমাঞ্চলের রেল যোগাযোগ ব্যবস্থায় এক নতুন দিগন্তের নাম নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেন। আপনি যদি খুলনা থেকে ঢাকা বা ঢাকা থেকে খুলনা রুটে নিরাপদ ও সাশ্রয়ী ভ্রমণে আগ্রহী হন, তবে নকশিকাথা কমিউটার সময়সূচি জানা আপনার জন্য অত্যন্ত জরুরি। পদ্মা সেতু হয়ে চলাচলকারী এই ট্রেনটি বর্তমানে যাত্রীদের পছন্দের শীর্ষে রয়েছে। খুলনা অঞ্চলের মানুষের দীর্ঘদিনের আক্ষেপ ঘুচিয়ে এই ট্রেনটি এখন সরাসরি রাজধানী ঢাকার সাথে সংযোগ স্থাপন করেছে। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা ২০২৬ সালের সর্বশেষ আপডেট অনুযায়ী নকশিকাঁথা ট্রেনের সময়সূচী, ভাড়ার তালিকা এবং টিকিট কাটার নিয়ম সম্পর্কে বিস্তারিত আলোচনা করব।
নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেনের পরিচিতি
নকশিকাঁথা এক্সপ্রেস বা নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেনটি বাংলাদেশ রেলওয়ের অধীনে পরিচালিত একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মেইল বা কমিউটার ট্রেন। এই ট্রেনটি মূলত খুলনা এবং ঢাকার মধ্যে চলাচল করে। এটি শুধুমাত্র একটি ট্রেন নয়, বরং দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের আবেগের একটি নাম। দীর্ঘ ২৯ বছর ধরে, অর্থাৎ ১৯৯৫ সাল থেকে ট্রেনটি তার সেবা দিয়ে আসছে। রেলওয়েতে এর নম্বর ৮২৫ (ঢাকা অভিমুখী) এবং ৮২৬ (খুলনা অভিমুখী)।
পূর্বে এই ট্রেনটি গোয়ালন্দ ঘাট পর্যন্ত চলাচল করত। কিন্তু পদ্মা রেল সংযোগ প্রকল্প চালু হওয়ার পর, যাত্রীদের সুবিধার কথা চিন্তা করে এর রুট বর্ধিত করে ঢাকা পর্যন্ত করা হয়েছে। বর্তমানে এই ট্রেনটি প্রায় ৩৯টি স্টেশনে যাত্রা বিরতি দেয়, যা লোকাল যাত্রীদের জন্য এক বিশাল সুবিধা। এটি সপ্তাহে ৭ দিনই চলাচল করে, অর্থাৎ এই ট্রেনের কোনো সাপ্তাহিক ছুটি নেই।
নকশিকাথা কমিউটার সময়সূচি ২০২৬ (খুলনা টু ঢাকা)
ভ্রমণের পরিকল্পনা করার আগে সঠিক সময় জানাটা খুব জরুরি। আপনি যদি খুলনা থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে রওনা হতে চান, তবে আপনাকে অবশ্যই রাতের সময়সূচী অনুসরণ করতে হবে। নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেনটি খুলনা স্টেশন থেকে রাতে যাত্রা শুরু করে এবং পরদিন সকালে ঢাকায় পৌঁছায়। দীর্ঘ এই যাত্রাপথে এটি যাত্রীদের সারারাত সেবা প্রদান করে।
নিচে খুলনা থেকে ঢাকা অভিমুখী নকশিকাথা কমিউটার সময়সূচি বিস্তারিত তুলে ধরা হলো:
| স্টেশনের নাম | ছাড়ার সময় |
| খুলনা | রাত ১১:০০ মিনিট |
| দৌলতপুর | রাত ১১:২৫ মিনিট |
| নোয়াপাড়া | রাত ১১:৪৮ মিনিট |
| যশোর জংশন | রাত ১২:১৮ মিনিট |
| মোবারকগঞ্জ | রাত ১২:৫৪ মিনিট |
| কোটচাঁদপুর | রাত ০১:১০ মিনিট |
| সাফদারপুর | রাত ০১:২১ মিনিট |
| আনসার বাড়িয়া | রাত ০১:৪১ মিনিট |
| উথলি | রাত ০২:০৩ মিনিট |
| দর্শনা হল্ট | রাত ০২:১৪ মিনিট |
| জয়রামপুর | রাত ০২:২৬ মিনিট |
| চুয়াডাঙ্গা | রাত ০২:৪১ মিনিট |
| মুন্সীগঞ্জ | রাত ০২:৫৫ মিনিট |
| আলমডাঙ্গা | রাত ০৩:০৫ মিনিট |
| হালসা | রাত ০৩:১৭ মিনিট |
| পোড়াদহ | রাত ০৩:৩০ মিনিট |
| কুস্টিয়া কোর্ট | রাত ০৩:৪৫ মিনিট |
| কুষ্টিয়া | রাত ০৩:৫৩ মিনিট |
| কুমার খালী | ভোর ০৪:১২ মিনিট |
| খোকসা | ভোর ০৪:২৪ মিনিট |
| মাছপাড়া | ভোর ০৪:৩৫ মিনিট |
| পাংশা | ভোর ০৪:৪৬ মিনিট |
| কালুখালী | ভোর ০৫:০১ মিনিট |
| বেলগাছি | ভোর ০৫:১২ মিনিট |
| রাজবাড়ী | ভোর ০৫:৪০ মিনিট |
| পাচুরিয়া জং | ভোর ০৫:৫০ মিনিট |
| খানখানাপুর | সকাল ০৬:০০ মিনিট |
| আমিরাবাদ | সকাল ০৬:১২ মিনিট |
| ফরিদপুর | সকাল ০৬:২৫ মিনিট |
| তালমা | সকাল ০৬:৪৭ মিনিট |
| পুখুরিয়া | সকাল ০৭:০০ মিনিট |
| ভাঙ্গা | সকাল ০৭:২০ মিনিট |
| ভাঙ্গা জং | সকাল ০৭:৩০ মিনিট |
| শিবচর | সকাল ০৭:৪৩ মিনিট |
| পদ্মা | সকাল ০৭:৫৫ মিনিট |
| মাওয়া | সকাল ০৮:১০ মিনিট |
| নিমতলা | সকাল ০৮:২৮ মিনিট |
| গেণ্ডারিয়া | সকাল ০৮:৫২ মিনিট |
| ঢাকা (কমলাপুর) | সকাল ০৯:১০ মিনিট |
এই সময়সূচী অনুযায়ী দেখা যাচ্ছে, ট্রেনটি খুলনা থেকে রাত ১১টায় ছেড়ে সারা রাত ভ্রমণ শেষে সকাল ৯টা ১০ মিনিটে ঢাকায় পৌঁছায়। এটি অফিসগামী যাত্রী এবং ব্যবসায়ীদের জন্য অত্যন্ত সুবিধাজনক।
নকশিকাথা কমিউটার সময়সূচি ২০২৬ (ঢাকা টু খুলনা)
ঢাকা থেকে ফেরার পথেও নকশিকাঁথা ট্রেনটি দিনের বেলা চলাচল করে, যা যাত্রীদের প্রকৃতির রূপ দেখতে দেখতে বাড়ি ফেরার সুযোগ করে দেয়। ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে ট্রেনটি সকালে ছেড়ে যায় এবং রাতে খুলনায় পৌঁছায়। ফেরার পথেও ট্রেনটি একই রুট এবং স্টেশনগুলোতে বিরতি দেয়।
নিচে ঢাকা থেকে খুলনা অভিমুখী ট্রেনের বিস্তারিত সময়সূচি দেওয়া হলো:
| স্টেশনের নাম | ছাড়ার সময় |
| ঢাকা কমলাপুর | সকাল ১১:২০ মিনিট |
| গেন্ডারিয়া | সকাল ১১:৩১ মিনিট |
| মাওয়া | দুপুর ১২:০৪ মিনিট |
| পদ্মা | দুপুর ১২:১৯ মিনিট |
| শিবচর | দুপুর ১২:৪৮ মিনিট |
| ভাঙ্গা জং | দুপুর ০১:০৩ মিনিট |
| ভাঙ্গা | দুপুর ০১:১২ মিনিট |
| পুখুরিয়া | দুপুর ০১:২২ মিনিট |
| তালমা | দুপুর ০১:৩৫ মিনিট |
| ফরিদপুর | দুপুর ০১:৫৩ মিনিট |
| আমিরাবাদ | দুপুর ০২:০৮ মিনিট |
| খানখানাপুর | দুপুর ০২:২০ মিনিট |
| পাচুরিয়া জং | দুপুর ০২:৩০ মিনিট |
| রাজবাড়ী | বিকাল ০৩:০০ মিনিট |
| বেলগাছি | বিকাল ০৩:১৫ মিনিট |
| কালুখালী জং | বিকাল ০৩:০০ মিনিট |
| পাংশা | বিকাল ০৩:৩৭ মিনিট |
| মাছপাড়া | বিকাল ০৩:৪৭ মিনিট |
| খোকসা | বিকাল ০৩:৫৭ মিনিট |
| কুমারখালী | বিকাল ০৪:০৮ মিনিট |
| কুষ্টিয়া | বিকাল ০৪:২৩ মিনিট |
| কুষ্টিয়া কোর্ট | বিকাল ০৪:৩২ মিনিট |
| পোড়াদহ | বিকাল ০৪:৪৮ মিনিট |
| হালসা | বিকাল ০৫:০০ মিনিট |
| আলমডাঙ্গা | বিকেল ০৫:১২ মিনিট |
| মুন্সীগঞ্জ | বিকেল ০৫:২২ মিনিট |
| চুয়াডাঙ্গা | বিকেল ০৫:৩৬ মিনিট |
| জয়রামপুর | বিকেল ০৫:৫০ মিনিট |
| দর্শনা হল্ট | সন্ধ্যা ০৬:০৪ মিনিট |
| উথলি | সন্ধ্যা ০৬:২৪ মিনিট |
| আনসার বাড়িয়া | সন্ধ্যা ০৬:৩১ মিনিট |
| সাফদারপুর | সন্ধ্যা ০৬:৪২ মিনিট |
| কোটচাঁদপুর | সন্ধ্যা ০৬:৫৩ মিনিট |
| মোবারকগঞ্জ | সন্ধ্যা ০৭:০৯ মিনিট |
| যশোর জংশন | সন্ধ্যা ০৭:৪০ মিনিট |
| নওয়াপাড়া | রাত ০৮:১১ মিনিট |
| দৌলতপুর | রাত ০৮:৪৩ মিনিট |
| খুলনা | রাত ০৯:০৫ মিনিট |
ঢাকা থেকে সকাল ১১টা ২০ মিনিটে রওনা দিয়ে ট্রেনটি রাত ৯টা ৫ মিনিটে খুলনায় পৌঁছায়। দীর্ঘ এই ভ্রমণে যাত্রীরা পদ্মা সেতুর সৌন্দর্য উপভোগ করার সুযোগ পান।
নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেনের ভাড়ার তালিকা ২০২৬
নকশিকাঁথা ট্রেনের জনপ্রিয়তার অন্যতম কারণ হলো এর সাশ্রয়ী ভাড়া। বাসের তুলনায় ট্রেনে যাতায়াত অনেক বেশি আরামদায়ক এবং খরচও তুলনামূলক কম। বিশেষ করে বর্তমান সময়ে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির বাজারে নকশিকাঁথা ট্রেন সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বাহন। দূরত্ব ও গন্তব্যভেদে এই ট্রেনের ভাড়া ৯০ টাকা থেকে শুরু করে ৬৬৫ টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে।
যাত্রীদের সুবিধার্থে স্টেশনভিত্তিক ভাড়ার একটি পূর্ণাঙ্গ তালিকা নিচে উপস্থাপন করা হলো:
| গন্তব্য ষ্টেশন | ভাড়া (টাকা) | গন্তব্য ষ্টেশন | ভাড়া (টাকা) |
| দৌলতপুর | ৯০ টাকা | পাংশা | ৩০৫ টাকা |
| নওয়াপাড়া | ৯০ টাকা | কালুখালী জং | ৩১৫ টাকা |
| যশোর জং | ৯০ টাকা | বেলগাছি | ৩২০ টাকা |
| মোবারক গঞ্জ | ৯০ টাকা | রাজবাড়ী | ৩৩৫ টাকা |
| কোটচাঁদপুর | ১৫৫ টাকা | খানখানাবাদ | ৩৫০ টাকা |
| সাফদারপুর | ১৬৫ টাকা | আমিরাবাদ | ৩৬০ টাকা |
| আনসারবাড়িয়া | ১৭০ টাকা | ফরিদপুর | ৩৭৫ টাকা |
| উথলি | ১৮০ টাকা | বাখুন্ডা | ৩৮০ টাকা |
| দর্শনা হল্ট | ১৯০ টাকা | তালমা | ৩৯০ টাকা |
| চুয়াডাঙ্গা | ২০৫ টাকা | পুখুরিয়া | ৪০৫ টাকা |
| মুন্সিগঞ্জ | ২২০ টাকা | ভাঙ্গা | ৪১০ টাকা |
| আলমডাঙ্গা | ২২৫ টাকা | ভাংগা জং | ৪১৫ টাকা |
| হালসা | ২৩৫ টাকা | শিবচর | ৪৩০ টাকা |
| পোড়াদহ জং | ২৪৫ টাকা | পদ্মা | ৪৩৫ টাকা |
| কুষ্টিয়া কোর্ট | ২৬০ টাকা | মাওয়া | ৬২০ টাকা |
| কুষ্টিয়া | ২৬৫ টাকা | শ্রীনগর | ৬৩০ টাকা |
| কুমারখালী | ২৮০ টাকা | নিমতলা | ৬৩৫ টাকা |
| খোকসা | ২৯০ টাকা | গেন্ডারিয়া জং | ৬৬০ টাকা |
| মাছপাড়া | ২৯৫ টাকা | ঢাকা | ৬৬৫ টাকা |
দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ যেকোনো সময় ভাড়ার তালিকা পরিবর্তন করার অধিকার রাখে। ভ্রমণের পূর্বে রেলওয়ে স্টেশন বা অফিশিয়াল ওয়েবসাইট থেকে বর্তমান ভাড়া যাচাই করে নেওয়া বুদ্ধিমানের কাজ হবে।
নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেনের সুবিধাসমূহ
একটি লোকাল বা কমিউটার ট্রেন হওয়া সত্ত্বেও নকশিকাঁথা যাত্রীদের বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে থাকে। আন্তঃনগর ট্রেনের মতো বিলাসবহুল না হলেও সাধারণ যাত্রীদের যাতায়াতের জন্য এটি যথেষ্ট মানসম্মত।
১. আসন ব্যবস্থা: ট্রেনটিতে বসার জন্য শোভন এবং শোভন চেয়ার ক্যাটাগরির আসন রয়েছে। আসনগুলো মোটামুটি আরামদায়ক।
২. মালপত্র পরিবহন: যাত্রীরা তাদের সাথে প্রয়োজনীয় মালামাল বা লাগেজ বহন করতে পারেন। লাগেজ রাখার জন্য নির্ধারিত স্থান রয়েছে।
৩. নিরাপত্তা: ট্রেনে রেলওয়ে পুলিশ এবং নিরাপত্তা কর্মীদের টহল থাকে, যা যাত্রীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করে।
৪. নিয়মিত চলাচল: এই ট্রেনের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এটি সপ্তাহে প্রতিদিন চলাচল করে। কোনো সাপ্তাহিক ছুটি না থাকায় যাত্রীরা যেকোনো দিন ভ্রমণের পরিকল্পনা করতে পারেন।
তবে কিছু অসুবিধাও রয়েছে যা যাত্রীদের মাথায় রাখা উচিত। যেমন, এই ট্রেনে আন্তঃনগর ট্রেনের মতো উন্নতমানের খাবার বা ক্যাটারিং সার্ভিস নেই। এসি বা শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত কোনো কামরা নেই এবং ঘুমানোর জন্য বার্থ বা কেবিনের ব্যবস্থা নেই। এটি মূলত বসে যাতায়াতের জন্য ডিজাইন করা হয়েছে।
কেন নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেন বেছে নিবেন?
বর্তমানে ঢাকা ও খুলনার মধ্যে যোগাযোগের জন্য বাসের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি আন্তঃনগর ট্রেন রয়েছে। যেমন সুন্দরবন এক্সপ্রেস বা চিত্রা এক্সপ্রেস। তবুও কেন আপনি নকশিকাঁথা কমিউটার বেছে নিবেন?
প্রথমত, খরচ সাশ্রয়। আন্তঃনগর ট্রেনের তুলনায় এই ট্রেনের ভাড়া কিছুটা কম। যারা নিয়মিত যাতায়াত করেন বা ছাত্রছাত্রী রয়েছেন, তাদের জন্য এটি একটি দারুণ অপশন।
দ্বিতীয়ত, স্টেশন সংখ্যা। আন্তঃনগর ট্রেনগুলো ছোট স্টেশনে থামে না। কিন্তু নকশিকাঁথা ট্রেনটি প্রায় ৩৯টি স্টেশনে থামে। ফলে গ্রাম বা মফস্বল এলাকার মানুষ খুব সহজেই তাদের গন্তব্যে পৌঁছাতে পারেন।
তৃতীয়ত, পদ্মা সেতুর রুট। এই ট্রেনটি পদ্মা সেতু হয়ে যায়, ফলে যমুনা সেতুর রুটের তুলনায় সময় অনেক কম লাগে এবং দূরত্বও কমে এসেছে।
ট্রেনের টিকিট কাটার নিয়ম ও পরামর্শ
নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেনের টিকিট সংগ্রহ করা এখন আগের চেয়ে অনেক সহজ। যাত্রীদের সুবিধার জন্য বাংলাদেশ রেলওয়ে অনলাইন এবং অফলাইন—উভয় পদ্ধতিতেই টিকিট কাটার ব্যবস্থা রেখেছে।
- স্টেশন কাউন্টার: যাত্রার দিন বা যাত্রার আগে আপনি সরাসরি স্টেশনে গিয়ে কাউন্টার থেকে টিকিট কাটতে পারেন। যেহেতু এটি একটি কমিউটার ট্রেন, তাই যাত্রার দিন স্টেশনে গিয়ে টিকিট কাটাই সবচেয়ে প্রচলিত পদ্ধতি।
- অনলাইন টিকেট: বর্তমানে বাংলাদেশ রেলওয়ের ই-টিকেট ওয়েবসাইট (Eticket) বা “Rail Sheba” অ্যাপের মাধ্যমেও অনেক সময় টিকিট পাওয়া যায়। তবে কমিউটার ট্রেনের সব টিকিট অনলাইনে নাও থাকতে পারে। সেক্ষেত্রে স্টেশন কাউন্টারই ভরসা।
ভ্রমণ টিপস:
- ট্রেন ছাড়ার অন্তত ৩০ মিনিট আগে স্টেশনে পৌঁছানো উচিত।
- সাথে শুকনো খাবার ও পানি রাখা ভালো, কারণ ট্রেনে খাবারের ক্যান্টিন নেই।
- আপনার মালামাল নিজ দায়িত্বে রাখুন।
- ট্রেনের সময়সূচি মাঝে মাঝে পরিবর্তন হতে পারে, তাই যাত্রার আগে আপডেট জেনে নেওয়া ভালো।
সচরাচর জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)
নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেন কি প্রতিদিন চলাচল করে?
হ্যাঁ, নকশিকাঁথা ট্রেনটি সপ্তাহের ৭ দিনই চলাচল করে। এর কোনো সাপ্তাহিক বন্ধ বা ছুটি নেই।
নকশিকাঁথা ট্রেনের টিকিট অনলাইনে পাওয়া যায় কী?
হ্যাঁ, বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিশিয়াল ওয়েবসাইট ও অ্যাপের মাধ্যমে টিকিট কাটার সুযোগ রয়েছে। তবে অনেক সময় লোকাল বা কমিউটার ট্রেনের টিকিট শুধুমাত্র কাউন্টার থেকে দেওয়া হয়। তাই স্টেশনে খোঁজ নেওয়া সবচেয়ে ভালো।
ঢাকা থেকে খুলনা যেতে নকশিকাঁথা ট্রেনের কত সময় লাগে?
সময়সূচি অনুযায়ী ঢাকা থেকে খুলনা যেতে ট্রেনটির প্রায় ১০ ঘণ্টা সময় লাগে। তবে ক্রসিং বা অন্যান্য কারণে এই সময় কিছুটা কম-বেশি হতে পারে।
নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেনের বর্তমান অবস্থা কিভাবে জানবো?
আপনি খুব সহজেই এসএমএস-এর মাধ্যমে ট্রেনের অবস্থান জানতে পারেন। আপনার মোবাইলের মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন TR <Space> 825 (ঢাকা অভিমুখী হলে) অথবা TR <Space> 826 (খুলনা অভিমুখী হলে) এবং পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নম্বরে। ফিরতি মেসেজে আপনি ট্রেনের বর্তমান অবস্থান জানতে পারবেন।
এই ট্রেনে কি এসি কেবিন আছে?
না, নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেনে কোনো এসি কেবিন বা বার্থ নেই। এটি সম্পূর্ণ নন-এসি চেয়ার কোচ ও সাধারণ সিট নিয়ে গঠিত।
শেষ কথা
দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের জন্য নকশিকাঁথা কমিউটার ট্রেন আশীর্বাদস্বরূপ। স্বল্প খরচে এবং নিরাপদে যাতায়াতের জন্য এর কোনো বিকল্প নেই। আজকের এই আর্টিকেলে আমরা চেষ্টা করেছি নকশিকাথা কমিউটার সময়সূচি, ভাড়ার তালিকা এবং অন্যান্য প্রয়োজনীয় তথ্য আপনাদের সামনে নির্ভুলভাবে তুলে ধরার। আশা করি, এই তথ্যগুলো আপনার পরবর্তী ভ্রমণকে আরও সহজ ও সুন্দর করে তুলবে। ট্রেনে ভ্রমণের সময় অবশ্যই টিকিট কেটে ভ্রমণ করবেন এবং রেলওয়ের আইন মেনে চলবেন। নিরাপদ হোক আপনার যাত্রা।



