উপকূল এক্সপ্রেস এর সময়সূচী ও ভাড়া ২০২৬
ঢাকা থেকে নোয়াখালী এবং নোয়াখালী থেকে ঢাকা রুটে যাতায়াতের জন্য উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি যাত্রীদের কাছে অত্যন্ত জনপ্রিয়। প্রতিদিন হাজার হাজার মানুষ এই ট্রেনে চড়ে রাজধানী থেকে উপকূলীয় জেলা নোয়াখালীতে যাতায়াত করেন। সম্প্রতি বাংলাদেশ রেলওয়ে এই ট্রেনের সাপ্তাহিক ছুটির দিন ও সময়সূচীতে কিছু গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন এনেছে। আপনি যদি উপকূল এক্সপ্রেসের নিয়মিত যাত্রী হন বা এই রুটে ভ্রমণের পরিকল্পনা করেন, তবে যাত্রা শুরু করার আগে নতুন সময়সূচী এবং নিয়মগুলো জেনে নেওয়া জরুরি।
উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেন
নোয়াখালী অঞ্চলের মানুষের জন্য ঢাকাগামী যাতায়াতে রেলপথ সবসময়ই প্রথম পছন্দ। সড়কপথের যানজট এড়িয়ে আরামদায়ক এবং সাশ্রয়ী ভ্রমণে উপকূল এক্সপ্রেস এর কোনো বিকল্প নেই। এই ট্রেনটি শুধু যাতায়াত নয় বরং দুই অঞ্চলের ব্যবসা-বাণিজ্য ও যোগাযোগের ক্ষেত্রে এক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে আসছে।
উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের আপডেট সময়সূচী ২০২৬
উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনটি দুটি ভিন্ন নম্বর দিয়ে পরিচালিত হয়। নোয়াখালী থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে ছেড়ে আসা ট্রেনের নম্বর ৭১১ এবং ঢাকা থেকে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যাওয়া ট্রেনের নম্বর ৭১২। নিচে বিস্তারিত সময়সূচী দেওয়া হলো:
ঢাকা টু নোয়াখালী উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২)
ঢাকা থেকে প্রতিদিন দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে উপকূল এক্সপ্রেস নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়। পথে বিভিন্ন স্টেশনে যাত্রা বিরতি দিয়ে এটি রাত ৮টা ২০ মিনিটে নোয়াখালী জংশনে পৌঁছায়।
| স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| ঢাকা কমলাপুর | – | বিকাল ০৩:১০ |
| ঢাকা বিমানবন্দর | বিকাল ০৩:৩০ | বিকাল ০৩:৩৫ |
| নরসিংদী | বিকাল ০৪:১৫ | বিকাল ০৪:১৭ |
| ভৈরব বাজার | বিকাল ০৪:৪৮ | বিকাল ০৪:৫০ |
| আশুগঞ্জ | বিকাল ০৪:৫৮ | বিকাল ০৫:০০ |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | বিকাল ০৫:১৫ | বিকাল ০৫:১৭ |
| আখাউড়া জংশন | বিকাল ০৫:৪০ | বিকাল ০৫:৪৭ |
| কসবা | সন্ধ্যা ০৬:০৪ | সন্ধ্যা ০৬:০৬ |
| কুমিল্লা | সন্ধ্যা ০৬:৩৫ | সন্ধ্যা ০৬:৩৮ |
| লাকসাম জংশন | সন্ধ্যা ০৭:০০ | সন্ধ্যা ০৭:০৩ |
| নাথারপেটুয়া | সন্ধ্যা ০৭:২৬ | সন্ধ্যা ০৭:২৮ |
| সোনাইমুড়ী | সন্ধ্যা ০৭:৪০ | সন্ধ্যা ০৭:৪২ |
| বজরা | সন্ধ্যা ০৭:৫১ | সন্ধ্যা ০৭:৫৩ |
| মাইজদী | রাত ০৮:০২ | রাত ০৮:০৪ |
| নোয়াখালী জংশন | রাত ০৮:২০ | – |
নোয়াখালী টু ঢাকা উপকূল এক্সপ্রেস (৭১১)
নোয়াখালী জংশন থেকে প্রতিদিন সকাল ৬টায় উপকূল এক্সপ্রেস ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করে ও সকাল ১১টায় ঢাকা কমলাপুর স্টেশনে পৌঁছায়।
| স্টেশনের নাম | পৌঁছানোর সময় | ছাড়ার সময় |
| নোয়াখালী জংশন | – | সকাল ০৬:০০ |
| মাইজদী কোর্ট | সকাল ০৬:০৫ | সকাল ০৬:০৭ |
| চৌমুহনী | সকাল ০৬:২১ | সকাল ০৬:২৩ |
| বজরা | সকাল ০৬:৩২ | সকাল ০৬:৩৪ |
| সোনাইমুড়ী | সকাল ০৬:৪৩ | সকাল ০৬:৪৫ |
| নাথারপেটুয়া | সকাল ০৬:৫৮ | সকাল ০৭:০০ |
| লাকসাম জংশন | সকাল ০৭:২০ | সকাল ০৭:২৫ |
| কুমিল্লা | সকাল ০৭:৪৯ | সকাল ০৭:৫২ |
| কসবা | সকাল ০৮:২২ | সকাল ০৮:২৪ |
| আখাউড়া জংশন | সকাল ০৮:৪৫ | সকাল ০৮:৫০ |
| ব্রাহ্মণবাড়িয়া | সকাল ০৯:০৯ | সকাল ০৯:১১ |
| আশুগঞ্জ | সকাল ০৯:২৮ | সকাল ০৯:৩০ |
| নরসিংদী | সকাল ১০:০৩ | সকাল ১০:০৫ |
| ঢাকা বিমানবন্দর | সকাল ১০:৪৫ | সকাল ১০:৪৭ |
| ঢাকা কমলাপুর | সকাল ১১:০০ | – |
উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের মূল্য ২০২৬
উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিটের দাম অন্যান্য যাতায়াত ব্যবস্থার তুলনায় বেশ সাশ্রয়ী। নিচে বিভিন্ন শ্রেণির সিট অনুযায়ী ভাড়ার তালিকা দেওয়া হলো:
| আসন শ্রেণি | মূল ভাড়া (টাকা) | অনলাইন চার্জসহ (টাকা) |
| শোভন চেয়ার | ৩১৫ | ৩৩৫ |
| স্নিগ্ধা (এসি) | ৫৯৮ | ৬১৮ |
বিশেষ দ্রষ্টব্য: বাংলাদেশ রেলওয়ের নীতিমালা অনুযায়ী যে কোনো সময় ভাড়ার হার পরিবর্তিত হতে পারে। অনলাইনে টিকিট কাটার ক্ষেত্রে প্রতিটি সিটের জন্য অতিরিক্ত ২০ টাকা সার্ভিস চার্জ প্রদান করতে হয়।
উপকূল এক্সপ্রেস সাপ্তাহিক ছুটির দিন ২০২৬
বাংলাদেশ রেলওয়ের নতুন প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, আন্তঃনগর উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে বড় পরিবর্তন আনা হয়েছে। আগে এই ট্রেনের বন্ধের দিন ভিন্ন ছিল, কিন্তু বর্তমানে নতুন নিয়ম কার্যকর হয়েছে।
- ৭১১ নং উপকূল এক্সপ্রেস (নোয়াখালী থেকে ঢাকা): এই ট্রেনটি প্রতি বৃহস্পতিবার বন্ধ থাকে।
- ৭১২ নং উপকূল এক্সপ্রেস (ঢাকা থেকে নোয়াখালী): এই ট্রেনটি প্রতি বুধবার বন্ধ থাকে।
আপনি যদি যাতায়াতের পরিকল্পনা করেন, তবে অবশ্যই এই ছুটির দিনগুলো মাথায় রেখে আপনার ভ্রমণের তারিখ নির্ধারণ করবেন। অন্যথায় স্টেশনে গিয়ে বিড়ম্বনায় পড়তে হতে পারে।
আরও জানতে পারেনঃ সুবর্ণ এক্সপ্রেস ট্রেনের সময়সূচী ও ভাড়া
উপকূল এক্সপ্রেস অনলাইন টিকেট কাটার নিয়ম
বর্তমানে ডিজিটাল পদ্ধতিতে ট্রেনের টিকিট কাটা অনেক সহজ হয়ে গেছে। উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের টিকিট আপনি ঘরে বসেই অনলাইন থেকে কাটতে পারবেন। এর জন্য নিচের ধাপগুলো অনুসরণ করুন:
- প্রথমে বাংলাদেশ রেলওয়ের অফিসিয়াল ওয়েবসাইট
eticket.railway.gov.bdএ প্রবেশ করুন। - আপনার মোবাইল নম্বর এবং পাসওয়ার্ড দিয়ে লগইন করুন (অ্যাকাউন্ট না থাকলে এনআইডি দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করে নিন)।
- ‘From’ অপশনে আপনার যাত্রার স্টেশন এবং ‘To’ অপশনে গন্তব্য স্টেশন নির্বাচন করুন।
- যাত্রার তারিখ এবং আপনার পছন্দের আসন শ্রেণি (Shovon Chair বা Snigdhya) সিলেক্ট করুন।
- বিকাশ, নগদ বা ডেবিট কার্ডের মাধ্যমে পেমেন্ট সম্পন্ন করুন।
- পেমেন্ট সফল হলে আপনার ইমেইলে ই-টিকিট চলে আসবে, যা আপনি ডাউনলোড করে প্রিন্ট করে নিতে পারেন।
উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের বগি বিন্যাস ও অবস্থান
উপকূল এক্সপ্রেস ট্রেনের বগিগুলোর বিন্যাস সাধারণত নির্দিষ্ট নিয়ম মেনে হয়। ঢাকা থেকে ছাড়ার সময় ইঞ্জিনের ঠিক পরেই ক, খ, গ এভাবে বগিগুলো সাজানো থাকে। আবার নোয়াখালী থেকে ছাড়ার সময় সিরিয়ালটি উল্টো দিক থেকে শুরু হয়। এই ট্রেনে পর্যাপ্ত পরিমাণ শোভন চেয়ার এবং এসি বা স্নিগ্ধা বগি রয়েছে।
মোবাইলে এসএমএস-এর মাধ্যমেও ট্রেনের অবস্থান জানা সম্ভব। এজন্য মেসেজ অপশনে গিয়ে টাইপ করুন TR [Space] Train Number এবং পাঠিয়ে দিন ১৬৩১৮ নম্বরে। ফিরতি মেসেজে আপনি ট্রেনের বর্তমান লোকেশন জানতে পারবেন।
গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নোত্তর (FAQ)
উপকূল এক্সপ্রেস ঢাকা থেকে কখন ছাড়ে?
উপকূল এক্সপ্রেস (৭১২) ঢাকা কমলাপুর স্টেশন থেকে প্রতিদিন দুপুর ৩টা ১০ মিনিটে নোয়াখালীর উদ্দেশ্যে ছেড়ে যায়।
এই ট্রেনটি সপ্তাহে কয়দিন বন্ধ থাকে?
ঢাকা থেকে নোয়াখালী যাওয়ার সময় বুধবার এবং নোয়াখালী থেকে ঢাকা আসার সময় বৃহস্পতিবার ট্রেনটি বন্ধ থাকে।
উপকূল এক্সপ্রেস কি প্রতিদিন চলে?
না, এটি একটি আন্তঃনগর ট্রেন যার নির্দিষ্ট সাপ্তাহিক ছুটির দিন রয়েছে। বুধবার ও বৃহস্পতিবার বাদে সপ্তাহের বাকি ৫ দিন এটি নিয়মিত চলাচল করে।
অনলাইনে টিকিট কতদিন আগে কেনা যায়?
যাত্রার তারিখের ১০ দিন পূর্ব থেকে আপনি অনলাইনে অগ্রিম টিকিট ক্রয় করতে পারবেন।
শেষ কথা
উপকূল এক্সপ্রেস ঢাকা ও নোয়াখালীর মধ্যে যাতায়াতকারী যাত্রীদের জন্য একটি নির্ভরযোগ্য যান। সঠিক সময়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে এবং ঝুকিমুক্ত ভ্রমণের জন্য এই ট্রেনের নতুন সময়সূচী এবং সাপ্তাহিক ছুটির দিন সম্পর্কে আপডেট থাকা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে ২০২৬ সালের নতুন নিয়ম অনুযায়ী বুধবার ও বৃহস্পতিবারের সময়সূচী মাথায় রাখলে আপনার ভ্রমণ হবে আনন্দদায়ক।



